বিশেষ প্রতিনিধি:
আসন্ন ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে ট্রেনে টিকেট কালোবাজারি ও টিকিট ক্রয়ের যাত্রী হয়রানির অভিযোগে দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিট গতকাল, ২৮ মে ২০২৫ তারিখ, বুধবার একযোগে দেশের ৮ রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করেন। রেলওয়ের টিকিট বিক্রয়কারী অনলাইন প্ল্যাটফর্ম সহজ ডট কম কর্তৃক ঈদ যাত্রার ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি অভিযোগে প্রেক্ষিতে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এনফোর্সেমেন্ট টিমের একটি প্রতিনিধিদল সহজ ডট কমের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। দুদকের এ পরিচালিত অভিযানে দুপুর ২.০০ ঘটিকার সময় দেখা যায় ঢাকা – সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস (৭০৯) ট্রেনের আগামী ৬ জুন ২০২৫ তারিখের ঈদের ট্রেনে টিকিট অনলাইন বিক্রয় সংক্রান্ত কার্যক্রম সরোজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন দুদক। সহজ ডট কমের এডমিন সার্ভার পর্যবেক্ষণে তুলে ওঠে ভিআইপি কোটার জন্য একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক সিট সিস্টেমের জরুরী কোটা (EQ) করে ব্লক করে রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ট্রেনের টিকিট সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়ার সময় ভিআইপি কোটার বাইরে ও অনুরোধে টিকিটগুলো কম্পিউটারের সিস্টেমে ব্লক করে রাখার সুযোগ রয়েছে এই মর্মে অভিধানকালে এনফোর্সমেন্ট নিকট প্রতীয়মান হয়েছে। এ প্রক্রিয়া দুর্নীতি বা অনিয়ম নির্ণয়ের অনলাইনে ৬ জুন ২০২৫ তারিখের ঈদ যাত্রার ট্রেনের টিকিট বিক্রয়ের সংক্রান্ত সার্ভারের রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। সার্ভার রিপোর্ট বিশ্লেষণপূর্বক দুদক টিম কর্তৃক কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন।
এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে দেখা গিয়েছে সহজ ডট কমের কর্মকর্তা কর্মচারীরা জড়িত ছিল রেলওয়ে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারিতে সেই ধরনের কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো। সহজ ডট কমের কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা:
মার্চ ২০২৪ সালে : র্যাব রাজধানীর কমলাপুর ও সবুজবাগ এলাকা থেকে সহজ ডট কমের ৯ কর্মচারীকে গ্রেফতার করে। তারা ঈদের সময় প্রায় ৩,০০০ টিকিট কালোবাজারি করছিলেন এবং প্রতিদিন ৫০০ টিকিট অবৈধভাবে বিক্রি করতেন।
জানুয়ারি ২০২৪ সালে : র্যাব সেলিম ও উত্তম চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেটের ১৪ সদস্যকে গ্রেফতার করে। তারা রেলওয়ে ও সহজ ডট কমের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় টিকিট কালোবাজারি করতেন। তাদের কাছ থেকে ১,২৪৪টি টিকিট, মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।
এপ্রিল ২০২২ সালে : সহজ ডট কমের সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার মো. রেজাউল করিম রেজাকে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে র্যাব আটক করে। তিনি টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চাকরিচ্যুত হন।
সহজ ডট কমের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রেলওয়ে কর্মচারীরা একত্রে সিন্ডিকেট গঠন করে টিকিট কালোবাজারি করছিলেন। এতে সাধারণ যাত্রীরা অতিরিক্ত দামে টিকিট কিনতে বাধ্য হচ্ছিলেন এবং রেলওয়ে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল।

