Wednesday, February 4, 2026

সৈয়দপুরে রেলওয়ে জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণের হিড়িক

Must read

মো:জাকির হোসেন সৈয়দপুর (নীলফামারী)সংবাদদাতা

রেলওয়ের শহর হিসেবে পরিচিত নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে রেলওয়ের জায়গায় অবৈধ বহুতল ভবন নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বহুগুণ বেশি মাত্রায় চলছে নানা ধরণের স্থাপনা নির্মাণের প্রতিযোগিতা। পুরো শহর জুড়ে এনিয়ে তোলপাড়া চললেও নির্বিকার রেলওয়ে ও পৌর প্রশাসন। অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই চলছে এমন অবৈধ কারবার।
শহরের প্রাণ কেন্দ্র পাঁচমাথা মোড় থেকে চলে যাওয়া চাউল মার্কেটের মোল্লা রোড ও রংপুর রোড সংলগ্ন রেলওয়ের জায়গায় একাধিক বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে একযোগে। এসব নির্মাণ করছেন যথাক্রমে- বিউটি সাইকেল স্টোরের মালিক আলতাফ হোসেন, সাবেক এমপি ও ইকু গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক, ফল আড়ত ব্যবসায়ী বিসমিল্লাহ ফল ভান্ডারের মালিক বাদশা, আলহাজ ফ্লাওয়ার মিলের মালিক হাজী শওকত আলী, সুপারী ব্যবসায়ী নাসিম, ভাঙ্গারি লোহা ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর, লোহার কাঠের ব্যবসায়ী ফখরে আলম।
এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় কোয়াটার ভেঙ্গে বানিজ্যিক ভবন, জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছেন বিভিন্নজন। এসব কার্য্যক্রম প্রকাশ্যে চললেও কেউ নেই বাধা দেয়ার। বরং এসব দেখার দায়িত্বে থাকা সৈয়দপুর রেলওয়ে ভুসম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তা এবং এইএনসহ পার্বতীপুর কাচারী-৮ এর কানুনগো অর্থের বিনিময়ে মৌখিক অনুমতি দিয়ে দখলবাজী ও স্থাপনা নির্মাণে উৎসাহিত করছেন। যে কারণে দেদারছে চলছে এই আইন বহির্ভূত কার্যক্রম।
অভিযোগ রয়েছে, পার্বতীপুর কানুনগো অফিসের কর্মচারী ফারুক ও সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার সিডিউল অফিসের সহকারী আলীর মাধ্যমে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীদের কাছ থেকে বখরা কালেকশন করছেন কানুনগো শরিফুল ইসলাম। এছাড়াও স্থানীয়ভাবে আরও কয়েকজন সোর্স নিযুক্ত করা হয়েছে নতুন গ্রাহক সংগ্রহ ও অর্থ তোলার জন্য। এদের মাধ্যমেই চলছে রেলওয়ের কোয়াটার, জায়গা দখলের মহোৎসব।
বিগত আওয়ামীলীগের আমলে যেহারে রেলওয়ের সম্পদ নানাভাবে বেদখল করা হয়েছে। বর্তমানে তার চেয়েও ব্যাপকহারে করা হয়েছে একাজে। সচেতন মহলের মন্তব্য, এভাবে রেলওয়ের সম্পত্তি প্রভাবশালীরা ক্রমাগত বেদখল করায় একদিকে রেলওয়ে হারাচ্ছে তার বিপুল সম্পত্তি অন্যদিকে সরকার বিপুল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে । এখনই এবিষয়ে পদক্ষেপ না নেয়া হলে অদূর ভবিষ্যতে রেলওয়ের সম্পদ বলে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবেনা। তাই তারা সরকারের উধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এব্যাপারে, বিসমিল্লাহ ফল ভান্ডারের মালিক বাদশা বলেন, কানুনগো শরিফুল ইসলাম ও পৌর প্রশাসকের মৌখিক অনুমতি পেয়ে বিল্ডিং নির্মানের কাজ করছি। এটা তো সবাই জানেন, কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ না করলে রেলওয়ের জমিতে বিল্ডিং নির্মাণ করা সম্ভব নয়। তারা লিখিত কোন অনুমতি না দিলেও মৌখিকভাবে কাজ করতে বলে। তাই সবগুলো বহুতল ভবনের কাজ চলছে।
পার্বতীপুর রেলওয়ের কাচারী-৮ এর কর্মচারী ফারুক বলেন, আমি এখানে অস্থায়ী কর্মচারী। আমার হুকুমে তো আর অফিস চলেনা। আমাকে যে নির্দেশ দেয়া হয়, সে অনুযায়ী আমি কাজ করি। বেশি কিছু জানার থাকলে কানুনগো স্যারের সাথে কথা বলেন।
কানুনগো শরিফুল ইসলামের সাথে এ ব্যাপারে কথা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সৈয়দপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নুর ই আলম সিদ্দিকীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

- Advertisement -spot_img

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

Latest article