স্টাফ রিপোর্টার :
চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা আপ তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪১ নং) ট্রেনে যাত্রী হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, খাবার বগির ম্যানেজার আজিজের অধীনস্থ কয়েকজন স্টাফ বিনা টিকিটে যাত্রী বহন ও টিকিটধারী যাত্রীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে।
শনিবার (১৭ আগস্ট ২০২৫) রাতের এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।চট্টগ্রাম থেকে যাত্রা করা একদল যাত্রী—যাদের মধ্যে ১৩ জন স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে ভ্রমণ করছিলেন—ট্রেনে উঠার কিছুক্ষণ পর খাবার বগির এক সদস্য তাদের কাছে গিয়ে জনপ্রতি ৪৫০ টাকা দাবি করেন। তিনি বলেন, এ টাকা দিলে তাদের সিটে বসার ব্যবস্থা করে দেবেন।
যাত্রীরা বিষয়টি বুঝতে না পেরে তাদের আত্মীয় আরএনবি কর্মকর্তা মো. আবু সুফিয়ান ভূঁইয়ার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করেন। তিনি বিষয়টি জানতে পেরে ফোনে সংশ্লিষ্ট স্টাফকে প্রশ্ন করেন—
“টিকিট কাটার পর আবার কেন টাকা দিতে হবে?”
এমন প্রশ্নে স্টাফ প্রথমে তার পরিচয় জানতে চান। পরিচয় দেওয়ার পরপরই ফোন কেটে দেন এবং পরবর্তীতে ম্যানেজার আজিজসহ অন্য স্টাফরা যাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন।ঘটনার পর মো. আবু সুফিয়ান ভূঁইয়া চট্টগ্রাম বেইজের টিটিই নির্ঝরকে ফোনে বিষয়টি জানান। তবে টিটিইর জিজ্ঞাসাবাদে খাবার বগির স্টাফরা অভিযোগ অস্বীকার করে।
পরে ট্রেন আখাউড়া স্টেশনে পৌঁছালে চেকিংয়ের সময় দেখা যায়, খাবার বগির সদস্যরা জনপ্রতি ৫০০ টাকা নিয়ে বিনা টিকিটে যাত্রী বহন করছে। যা সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত ও যাত্রী হয়রানির শামিল।আরএনবি কর্মকর্তা মো. আবু সুফিয়ান ভূঁইয়া বলেন—
“যাত্রীরা নিয়মিত টিকিট কেটে ট্রেনে উঠলেও খাবার বগির স্টাফরা অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে হয়রানি করছে। বিনা টিকিটের যাত্রী বহন করাও আইন বহির্ভূত। আমি এ বিষয়ে সঠিক ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।ঘটনার পর থেকে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। নিয়মিত টিকিট কেটে ভ্রমণ করেও যদি অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ রেলওয়ে সেবার প্রতি আস্থা হারাবে বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।
যাত্রী অধিকার সুরক্ষা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।

