Wednesday, February 4, 2026

রেলওয়ের আইন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও হয়রানির অভিযোগে তোলপাড়

Must read

স্টাফ রিপোর্টার :

বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের আইন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আল মাহমুদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও নারী সহকর্মীকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। গত ২৪ আগস্ট রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীনের কাছে দায়ের করা এক অভিযোগপত্রে এই তথ্য জানানো হয়।

অভিযোগপত্রটি দায়ের করেন রেলওয়ের উচ্চমান সহকারী ও প্রধান সহকারী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) পদে কর্মরত আসমা আক্তার।

অভিযোগে আসমা আক্তার উল্লেখ করেন যে, তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে রেলওয়ের সিআরবিতে কর্মরত আছেন। তার বাবা, প্রয়াত নুরুল ইসলাম ফারুকী, রেলওয়ের একজন প্রাক্তন সিনিয়র আওয়ার্স অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট কর্মকর্তা ছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, আট মাস আগে আইন দপ্তরে যোগদানের পর আল মাহমুদ তাকে দাপ্তরিক কাজের জন্য কোনো চেয়ার-টেবিল বরাদ্দ দেননি এবং তার প্রয়াত বাবাকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, আল মাহমুদ আইন দপ্তরের টাইপিস্ট মাকসুদা আক্তারকে অন্যত্র বদলির চেষ্টা করেন। আসমা আক্তার এই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা না করায় তাকে বিভিন্নভাবে মানসিক হয়রানির শিকার হতে হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আসমা আক্তারের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট সিপিও দপ্তরে সংরক্ষিত প্রাক্তন আইন কর্মকর্তা (পূর্ব) মো. সালাহ উদ্দিনের ব্যক্তিগত নথি থেকে তার এস.এস.সি পরীক্ষার সনদের ফটোকপি নেওয়ার জন্য অপারগতা প্রকাশ করলে আল মাহমুদ তাকে মৌখিকভাবে অকথ্য ভাষায় গালাগলি করেন এবং তার প্রয়াত বাবার নাম উল্লেখ করে অপমানজনক মন্তব্য করেন। এছাড়াও, হাজিরা খাতা নিয়ে মহাব্যবস্থাপকের কাছে তার উপস্থিতি সম্পর্কে ভিন্ন তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আসমা আক্তার দাবি করেন, আল মাহমুদ রেলওয়ের বিভিন্ন মামলায় আপিল না করে মামলার পক্ষগুলোর কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন, যা রেলওয়ে ও সরকারের রাজস্ব ক্ষতির কারণ হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, অর্থের বিনিময়ে মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রতিপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আসমা আক্তার আরও অভিযোগ করেন, আল মাহমুদ অফিসের সময়ের বাইরে তাকে ফোন করে বিরক্ত করতেন এবং অফিসে আপত্তিজনক মন্তব্য ও অঙ্গভঙ্গি করতেন। এক পর্যায়ে তার শরীরে হাত দেওয়া হয় এবং এর প্রতিবাদ করলে তাকে অন্য দপ্তরে বদলির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য পাঠানো হয় বলে তিনি জানান।

অভিযোগে বলা হয়, অফিস সহকারী নাজমুল আলম সিদ্দিকী ও টাইপিস্ট মাকসুদা আক্তার বদলি হওয়ার পর তাদের দায়িত্ব আসমা আক্তারের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদ করলে আল মাহমুদ তাকে তার নির্দেশনা মেনে চলার কথা বলেন।

আসমা আক্তারের দাবি, আল মাহমুদের বিরুদ্ধে পূর্বে রাজশাহীতে কর্মরত থাকাকালেও নারীঘটিত বিষয় ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ছিল। রেলওয়ের প্যানেল আইনজীবীদের সম্মানী আত্মসাতেরও একটি অভিযোগ তার বিরুদ্ধে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে আসমা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, “আল মাহমুদ আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, তার সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নেই। তিনি কোনো কারণ ছাড়াই আমার প্রয়াত বাবার নাম ধরে আমাকে গালিগালাজ করেন।”

তিনি আরও যোগ করেন যে, আল মাহমুদ বিভিন্ন সময়ে অফিসে এসে আপত্তিজনক মন্তব্য ও অঙ্গভঙ্গি করতেন এবং এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে আইন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আল মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগটি দেখেছেন খুব ভালো করেছেন, এখন ডিপার্টমেন্টকে বলেন অ্যাকশন নিতে, সমস্যা কি?

তিনি আরও বলেন, “সে আমার সাথে অসদাচরণ করেছে, অন্য কোনো সভ্য দেশ হলে সে কি চাকরি করতে পারতো? পারতো না। সে সব সময় অফিসে দেরি করে আসে, আর তা নিয়ে কথা বললে মানসিক নির্যাতন হয়? যদি তাই হয় তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলেন।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য পূর্বাঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক কাজী মো. সেলিমের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

- Advertisement -spot_img

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

Latest article