Wednesday, February 4, 2026

চাকরি স্থায়ী করার প্রলোভনে কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেন ওয়েম্যান আজিজ

Must read

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :

বাংলাদেশ রেলওয়ের সাবেক গেইট কিপার মোঃ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী চট্টগ্রাম বিভাগের এক ওয়েম্যান, আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন। সাইফুল ইসলাম চৌধুরী জানান, আব্দুল আজিজ দীর্ঘদিন ধরে চাকরি স্থায়ীকরণ এবং নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা আদায় করেছেন। এসব টাকার পরিমাণ প্রায় ৩,৪২,৯১,৫০০ টাকা যা তিনি বিভিন্ন অজুহাতে নিয়েছেন।এই অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, আব্দুল আজিজ বিভিন্ন সময়ে মোট ৩৪২ জন প্রার্থী থেকে অর্থ আদায় করেছেন। এই অর্থ তারা বিভিন্ন সময় চাকরি স্থায়ী করার জন্য, পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের আগে, এবং নানা অজুহাতে প্রদান করেছেন। তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন শতাধিক কর্মী, যারা এখন তার বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।সাইফুল ইসলাম চৌধুরী জানান, “আব্দুল আজিজ একাধিকবার আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। নানা অজুহাতে প্রতারণা করে তিনি শুধু আর্থিক ক্ষতিই করেননি, আমাদের জীবনও বিপর্যস্ত করে তুলেছেন। আমরা লোনের টাকা শোধ করতেই হিমশিম খাচ্ছি।” তিনি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে শুধু আর্থিক প্রতারণারই অভিযোগ নয়, তার রাজনৈতিক কার্যক্রমও অনেকটাই জটিল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এক সময় আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে তার পরিচিতি ছিল। ছাত্র জনতার গণ-অভ্যুত্থান আগে তিনি দলের বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করতেন।তবে, আওয়ামী লীগের পতনের পর তিনি নতুন করে জামায়াতে ইসলামীর শ্রমিক সংগঠন-এ যোগ দেন এবং সেখানে ব্যাপক সক্রিয়তা প্রকাশ করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্মচারীদের সংগঠন বিআরইএল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছেন। একদিকে দলের সংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয়, অন্যদিকে রেলওয়ের ভিতরে তিনি দুর্নীতি এবং অনিয়মের সাথে জড়িয়ে আছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।আব্দুল আজিজের রাজনৈতিক অস্থিরতা রেলওয়ে বিভাগের ভিতরে এক ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। তার বিভিন্ন সময়ে দলের মধ্যে ওঠানামা, দুর্নীতি ও অনিয়মের জন্য দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং কর্মীরা এখন হতাশ। সাইফুল ইসলাম চৌধুরী এবং অন্যান্য অভিযোগকারীরা জানান, তারা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত।এছাড়াও, তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের কারণে অনেক অস্থায়ী শ্রমিকের মধ্যে হতাশা বাড়ছে, কারণ তারা নিজের চাকরি স্থায়ী করার জন্য ধার-দেনা করতে বাধ্য হচ্ছে।আব্দুল আজিজ একাধিকবার কর্মীদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। চাকরি স্থায়ী করার প্রলোভন, পরীক্ষার ফলাফলের আগে টাকা আদায়, অবৈধ অফার লেটার প্রদানসহ নানা প্রতারণার মাধ্যমে তিনি টাকা হাতিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, যে অর্থ তিনি নিয়েছেন তা কর্মীদের ন্যায্য পাওনা ছিল না। বরং তিনি তাদের কাছে কৌশলে টাকা আদায় করেছেন, যা কর্মীদের আর্থিক ক্ষতি ও হতাশা সৃষ্টি করেছে।এ ঘটনায় রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই ঘটনা রেলওয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে এবং কর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।কর্মীরা এখন দ্রুত ন্যায়বিচার দাবি করছেন। তারা চাইছেন, এই ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে অন্য কেউ এরকম প্রতারণা করতে না পারে।এভাবে, আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে জমা হওয়া অভিযোগ এবং প্রতারণার বিষয়টি রেলওয়ে বিভাগের মধ্যে শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। এটি শুধুমাত্র আর্থিক ক্ষতি সৃষ্টি করেনি, বরং কর্মীদের ভবিষ্যতও বিপর্যস্ত করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা ।

- Advertisement -spot_img

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

Latest article