সেলিমুর রহমান :
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আজ শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৯ মিনিটে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী। আচমকা কম্পনে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে বাসা-বাড়ি ও অফিস থেকে বের হয়ে আসে।
ভয়াবহ এই কম্পনে ঢাকায় ৩ জন ও নারায়ণগঞ্জে ১ জনসহ মোট ৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। পুরান ঢাকার কসাইটুলি এলাকায় পাঁচতলা ভবনের রেলিং ভেঙে পড়ে নিহত হন ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী রাফিউল ইসলাম, সবুজ (৩০) এবং ৮ বছরের এক শিশু। তিনজনকেই মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দেয়াল ধসে মারা যায় নবজাতক ফাতেমা। গুরুতর আহত হন তার মা কুলসুম বেগম ও প্রতিবেশী জেসমিন বেগম।নরসিংদীতে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়। গাবতলী এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল ধসে একই পরিবারের তিনজন আহত হন। জেলার ছয়টি উপজেলায় ধস ও আঘাতের খবর পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে— ঢাকা মেডিকেল কলেজে ১০ জন, গাজীপুর তাজউদ্দীন মেডিকেলে ১০ জন এবং নরসিংদীতে ৫৫ জনসহ বিভিন্ন স্থানে মোট শতাধিক আহত হয়েছেন।
ভূমিকম্পের পরপরই তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা পরিদর্শনে নামে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। মেট্রোরেলের এমডি ফারুক আহমেদ নিজে নেতৃত্ব দেন একটি ইউনিটের। মতিঝিল থেকে উত্তরা পর্যন্ত তিনটি পৃথক টিমে ভাগ হয়ে সব স্টেশন পরিদর্শন করেন কর্মকর্তারা।
এমডি ফারুক আহমেদ রেল নিউজকে বলেন—
“ভূমিকম্পের পর তিনটি ইউনিট মতিঝিল থেকে উত্তরা পর্যন্ত সব স্টেশন দ্রুত পরিদর্শন করেছে। কোথাও কোনো অবকাঠামোগত ক্ষতি চোখে পড়েনি।”
তিনি আরও জানান—
“শুক্রবার সকালে স্টেশন বন্ধ থাকায় যাত্রীরা না থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়নি। ভূমিকম্পে সাধারণত আতঙ্কে লোকজন ছুটোছুটি করার সময় দুর্ঘটনা বেশি ঘটে— সেটিও এড়ানো গেছে।”
পরিদর্শন শেষে ফার্মগেট এলাকায় তিন ইউনিট বসে সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে।

