Wednesday, February 4, 2026

অত্যাধুনিক রেল ইঞ্জিনের ডিজা‌‌ইন তৈরি করে রেলবোর্ডে পাঠাল সিএলডব্লু

Must read

আন্তর্জাতিক :

বিদেশে রেল ইঞ্জিন রপ্তানির স্বপ্ন মোদি সরকারের বহু পুরনো। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী একাধিকবার সেই কথা বললেও এখনও তা বাস্তব রূপ পায়নি। বাধ সেধেছিল রেলের গেজ। অর্থাৎ ভারতে রেললাইন যতটা চওড়া(গেজ) থাকে, বিদেশে তার পরিমাপ ভিন্ন। তাই গেজের মাপের হেরফের ঘটিয়ে আধুনিক রেল ‌ইঞ্জিনের ডিজাইন তৈরি যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের ছিল। বহু প্রতিষ্ঠানই তা নিয়ে কাজ শুরু করে। জানা গিয়েছে, বাংলার রেল ইঞ্জিন কারখানা চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ সেই অসাধ্যসাধন করে রেলবোর্ডের কাছে ডিজাইন পাঠিয়েছে।
রেলের নিয়ম অনুযায়ী, রেলবোর্ড তাদের বিশেষজ্ঞ সংস্থা রিসার্চ ডিজা‌ই঩নিং স্ট্যান্ডার্ড অরগানাইজেশনের(আরডিএসও) মাধ্যমে তা যাচাই করবে। সব ঠিক থাকলে অনুমোদন মিলবে। এখন দেখার, বাংলার কারখানার এই প্রচেষ্টাকে রেলমন্ত্রক কতদিনে স্বীকৃতি দেয়। শুধু বিদেশের জন্য রেল ইঞ্জিন নির্মাণই নয়, ইলেক্ট্রিক সান্টিং লোকো তৈরি করে নিজেদের গুরুত্ব ধরে রাখতে মরিয়া সিএলডব্লু কর্তৃপক্ষ। শ্রমিক সংগঠন সূত্রে দাবি, আমাদের আধুনিক সরঞ্জাম তৈরি করতেই হবে। নয়তো শুধুমাত্র সাধারণ লোকো প্রস্তুত করে বাজারে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে উঠবে।
নতুন প্রযুক্তির রেল ইঞ্জিন তৈরির চেষ্টা চলছেই। এছাড়াও, সিএলডব্লু যে ইঞ্জিনগুলি প্রস্তুত করছে, তা অতি দ্রুতগতিতে তৈরি হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, ১ এপ্রিল থেকে ১৭ নভেম্বরের মধ্যে সিএলডব্লুতে ৫০০ লোকো ইঞ্জিন তৈরি হয়েছে। যা সর্বকালীন রেকর্ড। এত কম দিনে এই সংখ্যক ইঞ্জিন আগে তৈরি হয়নি।
এই বিপুল সংখ্যক ইঞ্জিন তৈরি করার পরও কী কারখানার শ্রমিক, আধিকারিকরা স্বস্তিতে আছেন? চিত্তরঞ্জনে গিয়ে জানা যায়, মোটেও তাঁরা স্বস্তিতে নেই। প্রথমত, কারখানার বহু ওয়ার্কশপ বিজেপির হাতে থাকা রেলমন্ত্রক বন্ধ করে দিয়েছে। সেইসব সামগ্রী বাইরে থেকে নিয়ে আসা হচ্ছে। এছাড়া, এখন দেশের মাটিতেই বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা এই সাধারণ রেল ইঞ্জিনগুলি তৈরি করছে। তারাও ব্যাপক পরিমাণে উৎপাদন করছে। তাই রেল ই঩ঞ্জিন তৈরির বাজারে সিএলডব্লুর একছত্র বাজার নেই। দ্বিতীয়ত, যে হারে দেশে ইঞ্জিন তৈরি হচ্ছে, তাতে কয়েক বছর পর আর রেল ইঞ্জিনের এত চাহিদা থাকবে না। স্বাভাবিকভাবেই তখন কারখানার প্রয়োজনীয়তা প্রশ্নের মুখে পড়বে। সেই জটিল পরিস্থিতিতে পড়ার আগেই কর্তৃপক্ষ থেকে সাধারণ শ্রমিকরা সকলেই অভিনব কিছু তৈরি করতে চাইছেন। সেই লক্ষ্যেই বিদেশের মার্কেট ধরতে তাঁরা উঠে পড়ে লেগেছেন। যদিও রেলবোর্ডের অনুমোদনের আগে কারখানা কর্তৃপক্ষ এবিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চায়নি।
সিটু নেতা রাজীব গুপ্ত বলেন, কেনিয়ার ৫০টি লোকো সরবরাহ করার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। যদিও তা গোপন রাখা হয়েছে। আমরা দাবি করেছি, কোনও সংস্থার সামগ্রীর ব্যবহার করে আমরা লোকো সরবরাহ করব না। আমাদের এখানেই বানানো হবে। আমাদের ডিজাইনে তা তৈরি হোক। এখন বল রেলবোর্ডের কোর্টে।
আইএনটিইউসি নেতা নেপাল চক্রবর্তী বলেন, আমাদের শ্রমিকদের অসাধারণ দক্ষতা রয়েছে। আমরা দাবি করেছি, আমাদের উপর আস্থা রাখা হোক। আমাদের হাত দিয়ে দেশ প্রথম লোকো রপ্তানি করুক।

- Advertisement -spot_img

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

Latest article