Wednesday, February 4, 2026

দুর্নীতিতে অভিযুক্ত সেলিমের বদলি, গডফাদারের ইশারায় ১২ দিনে স্থগিত!

Must read

বিশেষ প্রতিবেদক :

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ উপপরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস জিসা স্বাক্ষরিত এক দপ্তরাদেশে দেখা যায় বাংলাদেশ রেলওয়ের সংকেত ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের বদলি ও পদায়ন আদেশে মোহাম্মদ সেলিম কে তার বর্তমান পদ বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী, পাহাড়তলী চট্রগ্রাম থেকে বিভাগীয় সংকেত প্রকৌশলী, সি আর বি, চট্টগ্রাম এবং নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী, সি আর বি, চট্টগ্রাম। এই দপ্তরাদেশের ১২ দিন পরে অদৃশ্য শক্তির বলে গনেশ উল্টে গেলো। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ আরেকটি দপ্তারাদেশে মোহাম্মদ সেলিমকে বদলি না করে পূর্বের যায়গায় বহাল রাখা হয়।
প্রশ্ন উঠেছে মোহাম্মদ সেলিমের এই ক্ষমতার উৎস কোথায়? দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ রয়েছে মোহাম্মদ সেলিমের বিরুদ্ধে। চলছে তদন্ত । আর এই তদন্তে উঠে এসেছে মোহাম্মদ সেলিমের এক গড ফাদারের নাম। দোহাজারী হতে কক্সবাজার ডুয়েল গেজ রেল প্রকল্পে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি ও মালামাল ব্যবহার এবং চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে ৫০ কোটি টাকার বেশি দুর্নীতির অভিযোগে দুদক আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান শুরু করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে—একই প্রকল্পে তিনি একযোগে চারটি লাভজনক পদে দায়িত্ব পালন করে ব্যাপক প্রভাব খাটিয়েছেন। তাকে বদলির নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি যোগদান না করে প্রভাব খাটিয়ে আগের দায়িত্বেই বহাল থাকেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি সপ্তাহে দুই–তিন দিন স্বল্প সময়ের জন্য অফিস করেন এবং মূলত টেন্ডার-সংক্রান্ত ফাইলে স্বাক্ষর দিতেই উপস্থিত হন।অনুসন্ধান সূত্র জানায়, প্রকল্পের নয়টি স্টেশনের সংকেত ও টেলিকম ব্যবস্থায় গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেছে। বিদেশ থেকে আনার কথা থাকলেও রডিং স্থানীয়ভাবে নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যেই মরিচা ধরে নষ্ট হওয়ার পথে। চুক্তি অনুযায়ী শিল্পকারখানার মানের এয়ারকন্ডিশনার দেওয়ার কথা থাকলেও বসানো হয়েছে সাধারণ গৃহস্থালি এসি—ফলে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি অতিরিক্ত গরম হয়ে বিকল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। নয়টি স্টেশনের মোট ১৮টি মেকানিক্যাল পয়েন্ট নিম্নমানের লোকাল যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি হওয়ায় সিগন্যালিং সমস্যার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এমনকি ব্লক কমিউনিকেশনের জন্য আবশ্যক এক্সেল কাউন্টারও স্থাপন করা হয়নি, যা রেল চলাচলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে। সিগন্যাল লাইটে ব্যবহৃত এলইডিগুলো এতটাই নিম্নমানের যে চালকরা সঠিকভাবে নির্দেশনা বোঝা নিয়ে সমস্যায় পড়ছেন। এছাড়া চুক্তি অনুযায়ী কপার রড ব্যবহারের কথা থাকলেও আয়রন রডে কপার রঙ লাগিয়ে তা ব্যবহারের অভিযোগও পাওয়া গেছে।রিসেটেলমেন্ট শাখায় জমির মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেশি দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা অপচয়ের অভিযোগও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। মো. সেলিমের নামে-বেনামে চট্টগ্রামের খুলশী ও কাজির দেউরিতে ফ্ল্যাট এবং ঢাকার বসুন্ধরায় ছয় কাঠা জমিসহ বিপুল সম্পত্তির তথ্যও দুদক খতিয়ে দেখছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। দুদক ইতোমধ্যে রেলওয়ের মহাপরিচালকের কাছে মো. সেলিমের জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, স্থায়ী-বর্তমান ঠিকানা, মোবাইল নম্বরসহ সব ব্যক্তিগত তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে। পাশাপাশি যন্ত্রপাতি ক্রয়ের দরপত্র, নোটশিট, চুক্তিপত্র ও মূল্যতালিকাসহ সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। রেল ভবন থেকেও পূর্বাঞ্চলীয় জিএমকে এসব তথ্য সরবরাহের জন্য আলাদা নির্দেশ পাঠানো

- Advertisement -spot_img

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

Latest article