গোবরা–ঢাকা রুটে সরাসরি ট্রেন না থাকা, ঢাকা-কাশিয়ানী-কালুখালী রুটে ট্রেন না থাকা, এয়ারপোর্ট ও জয়দেবপুরের যাত্রীদের জন্য পদ্মা সেতু হয়ে চলাচলকারী ট্রেনের অফিসিয়াল শাটল না থাকা, সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেসের রেক ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঢাকায় পড়ে থাকা, জয়দেবপুর কমিউটার রেক ১৫ ঘণ্টা অলস থাকা এসব সমস্যা কোনো হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনা নয়। এগুলো রেলওয়ের বহুদিনের পরিকল্পনাহীনতা, অব্যবস্থাপনা এবং অনেকাংশে বাস মালিকদের সাথে গোপনে আতায়াতের ফল।
রুট প্রস্তুত, স্টেশন প্রস্তুত, যাত্রী প্রস্তুত কিন্তু রেলওয়ে প্রস্তুত নয়। যেসব রুটে সবচেয়ে বেশি ট্রেন প্রয়োজন, সেখানে ট্রেন নেই। অথচ এই বিশৃঙ্খলার আড়ালে আরেকটি বিষয় অনেক সময়ই চেপে রাখা হয় ইচ্ছাকৃতভাবে কৃত্রিম কোচ সংকট, লোকো সংকট সৃষ্টি করে নতুন প্রকল্প নেওয়ার ধান্দা।
কোচ নেই, লোকো নেই, জনবল নেই এই তিনটি চিরচেনা অজুহাত দিয়ে রেলওয়ে বাস্তবে নিজের অদক্ষতা ঢেকেও রাখে, আবার নতুন প্রকল্পের নামে কোটির পর কোটি টাকা ব্যয়ের পথও খুলে দেয়। যে রুটে যাত্রী কম, সেখানে রেক বসিয়ে রেখে পরে বলা হয় দেখেন যাত্রী নেই এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করেই প্রকল্পের যৌক্তিকতা বাড়ানো হয়।
আরও বড় দুঃখের জায়গা হলো গত এক বছরে রেলওয়ে বড় বড় বুলি দিয়েছে
রুট রেশনালাইজড করবে, যাত্রী হয়না এমন রুটে ট্রেন কমাবে, যাত্রীপূর্ণ রুটে ট্রেন বাড়াবে, রেক ব্যবস্থাপনা আধুনিক করবে। এসব নিয়ে কমিটিও হয়েছে, আলোচনা সভাও হয়েছে, ফাইল ঘুরেছে, সংবাদেও এসেছে কিন্তু মাঠে বাস্তবায়ন শূন্য। কথার ফুলঝুড়ি শেষে আগের মতোই অব্যবস্থাপনা রয়ে গেছে; যাত্রী সুবিধা বাড়েনি, বরং ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
যেখানে প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি গোবরা–ঢাকা রুট, দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলের ঢাকামুখী বিশাল যাত্রিচাহিদা—সেখানে রেলওয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। একদিকে সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ঘন্টার পরে ঘন্টা ঢাকা বসে থাকে, অন্যদিকে জয়দেবপুর কমিউটার রেক ১৫ ঘণ্টা বসাই থাকে। জয়দেবপুর কমিউটার ১/৩ যাত্রী নেই বললেই চলে শুধু ২ নম্বর ট্রিপেই চাহিদা রয়েছে । তারপরও যেগুলো প্রয়োজন নেই সে ট্রেনগুলো চালানো হচ্ছে, আর যেগুলো দরকার সেগুলো আটকে রাখা হচ্ছে।রেলের যেটা করা উচিত সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেসকে গোবরা পর্যন্ত বাড়ানো।
জয়দেবপুর কমিউটারকে ঢাকায় বসিয়ে না রেখে ঢাকা–কাশিয়ানী–বোয়ালমারী–কালুখালী রুটে চালানো।
পদ্মাসেতু হওয়ার পরে দক্ষিনাঞ্চলের মানুষ যেমন অল্প সময়ে ট্রেনে চড়ে যশোর/খুলনা যেতে পারতেছে ঠিক তেমনি এয়ারপোর্ট, জয়দেবপুরের যাত্রীরা উক্ত ট্রেন সমূহে চলাচলের সুবিধা হারাচ্ছে। রেলওয়ে থেকে কোনো শাটল ট্রেনও ব্যবস্থা করে নাই। এমনকি বিদ্যমান কোনো ট্রেনকে অফিসিয়াল শাটলও ঘোষণা করে নাই।
কৃত্রিম কোচ–লোকো সংকট তৈরি বন্ধ করে বর্তমান রেককে যথাযথভাবে কাজে লাগানো।
সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া, যাত্রীচাহিদাকে গুরুত্ব না দিয়ে, শুধু কোটির পর কোটি টাকা ঢেলে নতুন প্রকল্প নিলে রেল কখনোই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। রেলকে বাঁচাতে হলে কথার বুলি নয় বাস্তবিক সিদ্ধান্ত, কার্যকর রুট ব্যবস্থাপনা এবং যাত্রিকেন্দ্রিক পরিকল্পনা দরকার।
যতদিন এগুলো না হবে, ততদিন রেলের প্রতি আস্থা কমবে, ক্ষোভ বাড়বে, আর উন্নয়ন শুধু কাগজেই ঘুরে বেড়াবে।
ব্রডগেজ লোকো যথেষ্ট আছে, ইশ্বরদীতে পড়ে থাকা ভ্যাকুয়াম রেকে মরিচা ধরতেছে, অথচ প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকার রেললিংকে ট্রেন চালানো হচ্ছে না।
পদ্মা রেললিংকের শতভাগ সুবিধা নিশ্চিতকরনে নতুন ট্রেন চালুর পাশাপাশি বিদ্যমান কয়েকটি ট্রেনের রুট এক্সটেনশন এবং অফিসিয়াল শাটল ট্রেন জরুরি।

