স্টাফ রিপোর্টার :
ময়মনসিংহ-ভৈরব রেলপথে অবস্থিত ঐতিহাসিক নান্দাইল উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন নান্দাইল রোড এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। একই রুটের পাশ্ববর্তী মুশুল্লী স্টেশন কয়েক বছর ধরে বন্ধ থাকায় কার্যত বিলীন হওয়ার পথে। জনবল সংকট, অবহেলা এবং ট্রেন স্টপেজ কমে যাওয়ায় এক সময়ের ব্যস্ততম এই স্টেশন দুটির কার্যক্রম এখন সীমিত হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত স্টেশন দুটিতে দীর্ঘদিন বড় ধরনের উন্নয়ন হয়নি। নান্দাইল রোড স্টেশনে একটি শেডবিহীন পাকা প্ল্যাটফর্ম ও একটি সিগন্যাল বক্স থাকলেও যাত্রীদের জন্য নেই পর্যাপ্ত বিশ্রামাগার বা নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা। জরাজীর্ণ অবকাঠামোর মধ্যেই চলছে দৈনন্দিন কার্যক্রম।
একসময় নান্দাইল, তাড়াইল ও কেন্দুয়া উপজেলার হাজারো মানুষ স্বল্প খরচে ও নিরাপদ যাতায়াতের জন্য এই রেলপথ ব্যবহার করতেন। দিনে ও রাতে আপ-ডাউন মিলিয়ে প্রায় ১০টি ট্রেন চলাচল করত এবং প্রতিটি ট্রেনই নান্দাইল রোড ও মুশুল্লী স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিত।যাত্রীদের পদচারণায় মুখর থাকত স্টেশন চত্বর।
বর্তমানে কেবল Chattogram Mail (৩৭-আপ) রাত ৩/৪টার দিকে এবং একই ট্রেনের (৩৮-ডাউন) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে নান্দাইল রোড স্টেশনে থামে। আন্তঃনগর ট্রেনের কোনো স্টপেজ না থাকায় যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। একটি ট্রেনের জন্য সারাদিন অপেক্ষা করতে হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ট্রেনযাত্রী আব্দুল মোমেন ও এনামুল মিয়া বলেন, “ট্রেন গরিবের গাড়ি। অল্প খরচে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা রেলপথ। কিন্তু একটি ট্রেনের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।” তারা ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানান।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন ভূইয়া জানান, সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ চালু ও লোকাল ট্রেন বৃদ্ধি করলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।নান্দাইল রোড স্টেশনের দায়িত্বে থাকা স্টেশন মাস্টার ইমাম হোসেন (অতিরিক্ত দায়িত্বে) বলেন, যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় ট্রেন বাড়ানো এবং রেলযোগাযোগ আধুনিকায়নের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সুদৃষ্টি প্রয়োজন।
রেলপথের উন্নয়ন ও পর্যাপ্ত ট্রেন চালু না হলে ঐতিহ্যবাহী নান্দাইল রোড স্টেশনও বন্ধের পথে এগিয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

