বিশেষ প্রতিবেদক :
রেলনিউজে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর চট্টগ্রাম বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী মোহাম্মদ সেলিমকে অবশেষে বিভাগ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৬ নভেম্বর) রেলওয়ের পার্সোনেল–১ শাখার উপপরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস জিসা স্বাক্ষরিত দপ্তর আদেশে এই ব্যাপক কর্মকর্তা বদলি কার্যক্রম নিশ্চিত করা হয়।
দপ্তর আদেশে জানা যায়, বহু বিতর্ক ও দুদকের তদন্তের কেন্দ্রে থাকা মোহাম্মদ সেলিমকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলীর পদ থেকে বদলি করে উপপরিচালক (টেলিকম-২) করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর নামে বিভিন্ন অনিয়ম, প্রকল্পে অসঙ্গতি, এবং প্রায় ৫০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসে—যা রেলনিউজে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে তদন্তও শুরু করেছে।রেলনিউজে গত রোববার প্রকাশিত “৫০ কোটি টাকা দুর্নীতি : দুদকের জালে সেলিম” এবং গত মঙ্গলবার প্রকাশিত “দুর্নীতিতে অভিযুক্ত সেলিমের বদলি গডফাদারের ইশারায় ১২ দিনের স্থগিত”—এই দুটি প্রতিবেদনের পরই রেলওয়ে মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। অবশেষে অভিযুক্ত প্রকৌশলী সেলিমকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে কর্তৃপক্ষ।এদিকে একই দপ্তর আদেশে আরও তিন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। তারা হলেন, শাকিলা জাহান শিল্পী, আব্দুর রাজ্জাক এবং মো. আশিকুর রহমানের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংবাদপত্রে প্রকাশিত ধারাবাহিক অনুসন্ধান এবং দুদকের বর্তমান তদন্তই সেলিমকে সরানোর সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে। তাদের দাবি—এই বদলি প্রক্রিয়া রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম–দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করল।

