আন্তর্জাতিক :
গতকাল বৃহস্পতিবার The Times of India পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,রেলপথ মানব পাচারের প্রধান করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের জাতীয় মহিলা কমিশনের (NCW) চেয়ারপারসন বিজয়া রাহতকর। তিনি বলেন, দেশের বিস্তৃত রেল নেটওয়ার্ক ও স্টেশনগুলোকে কাজে লাগিয়ে পাচারকারীরা নারী ও শিশুদের প্রকাশ্যেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাচ্ছে, যা অনেক সময় যাত্রী ও কর্তৃপক্ষের চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ডিব্রুগড়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, আসামের কিছু অংশে মানব পাচারের ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে এবং বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে জাতীয় মহিলা কমিশন। এ অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বিজয়া রাহতকর বলেন, “নারী ও শিশু পাচার বন্ধে এনসিডব্লিউ আন্তরিকভাবে কাজ করছে। আমরা দেখেছি, অধিকাংশ পাচার রেলপথেই ঘটে। পাচার অনেক সময় চোখের সামনেই হয়, কিন্তু তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।”
তিনি আরও বলেন, পাচারকারীরা প্রকাশ্যেই কাজ করায় তাদের চিহ্নিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য মানব পাচারবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত সব পক্ষের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা জরুরি।
এনসিডব্লিউ চেয়ারম্যান জানান, ঝাড়খণ্ডসহ অন্যান্য রাজ্যেও একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যেখানে বড় পরিসরে মানব পাচার কার্যক্রম চলছে। দুর্বল নারী ও শিশুদের টার্গেট করা এসব অপরাধী চক্র দ্রুত ভেঙে ফেলার ওপর তিনি জোর দেন।
তিনি বলেন, বুধবার ডিব্রুগড়ে রেলওয়ে পুলিশ ফোর্সের (আরপিএফ) সহযোগিতায় মানব পাচারবিরোধী একটি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। রেল ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে একত্র করে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে তোলাই ছিল এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য।
রেলওয়ের কর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, রেলস্টেশনে কর্মরত নিরাপত্তা বাহিনী, দোকানদার, কুলি, ভ্যানচালক ও সংশ্লিষ্ট এনজিওগুলো মানব পাচার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, পাচারকারীদের কৌশল প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে, যা একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। যদিও আরপিএফ, বিএসএফ, সিআইএসএফ ও রাজ্য পুলিশ সহযোগিতা করছে, তবুও সাধারণ মানুষসহ রেলস্টেশনে উপস্থিত প্রত্যেকের সচেতন অংশগ্রহণ মানব পাচার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

