বিশেষ প্রতিবেদক :
দেশের বর্তমান সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির পূর্বঘোষিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
স্থগিত কর্মসূচি দুটি হলো—
১) “রেলওয়েকে লাভজনক করতে দুর্নীতিবাজমুক্ত রাজনীতিক এবং কর্মকর্তা প্রয়োজন” শীর্ষক সংলাপ ও সংবাদ সম্মেলন
২) চট্টগ্রামের সিআরবি দপ্তর প্রাঙ্গণে ঘোষিত দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান কর্মসূচি
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্ভূত জাতীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, সম্ভাব্য অস্থিরতা এবং বৃহত্তর জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলেন,
“দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্বশীল সংগঠন হিসেবে আমরা আমাদের ঘোষিত কর্মসূচি দুটি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছি। তবে এটি কোনোভাবেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান থেকে সরে আসা নয়।”
তিনি আরও বলেন,
“রেলওয়েকে লাভজনক, টেকসই ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের জন্য দুর্নীতিবাজ রাজনীতি ও প্রশাসনিক সিন্ডিকেটমুক্ত ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য—এই নীতিগত অবস্থান থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি এক চুলও সরে আসবে না।”সংগঠনটির নেতারা জানান, জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সম্ভাব্য উত্তেজনার সময় কর্মসূচি পালন না করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষা করাই অধিক দায়িত্বশীল ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত বলে তারা মনে করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, “আমাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও আইনানুগ। কোনো কর্মসূচি যেন ভুল ব্যাখ্যা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার না হয়—সেদিকেই আমরা সতর্ক।”
রেলওয়ে সংস্কার, দুর্নীতি, নিয়োগ–বাণিজ্য, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা এবং পোষ্যদের ন্যায্য ও সাংবিধানিক অধিকার প্রশ্নে সংগঠনটির অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে বলেও জানানো হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কর্মসূচির নতুন তারিখ, সময় ও স্থান গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।বিশ্লেষকদের মতে, চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কর্মসূচি স্থগিত করে বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি একটি পরিণত, দায়িত্বশীল ও রাষ্ট্রসচেতন সংগঠনের পরিচয় দিয়েছে। একই সঙ্গে এটি স্পষ্ট করেছে যে, সংগঠনটি তাৎক্ষণিক উত্তেজনার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি নীতি, জনস্বার্থ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

