Tuesday, February 3, 2026

সংকেত ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সুশীল–তুষারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

Must read

বিশেষ প্রতিবেদক :

বাংলাদেশ রেলওয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংকেত ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী সুশীল কুমার হালদার এবং অতি: প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী (সিএসটিই-পূর্ব) তারেক মোহাম্মদ শামছ তুষারের নেতৃত্বে এই বিভাগে একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে উঠেছে।
নিরাপদ ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করা, ট্রেনের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ এবং রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের দায়িত্বে থাকা এই বিভাগটি কার্যত তার লক্ষ্য থেকে সরে এসেছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেক রুটে এখনও ম্যানুয়াল ও অ্যানালগ সিগন্যাল ব্যবস্থায় ট্রেন পরিচালিত হচ্ছে, যা ডিজিটাল যুগে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
দুদকের চিঠিঃ
সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংকেত ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থ ছাড় ও ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী বরাবর চিঠি দিয়েছে। বিষয়টিকে অনিয়মের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
পছন্দের ঠিকাদার ও টেন্ডার অনিয়মের অভিযোগঃ
ভুক্তভোগী কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, সংকেত ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে কাজ পাচ্ছে। পছন্দের ঠিকাদার ছাড়া অন্যদের টেন্ডারে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, প্রকল্পের কাজ পেতে ঠিকাদারদের ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দিতে বাধ্য করা হয়। এর মাধ্যমে সরকারি অর্থের বড় অংশ অপচয় ও আত্মসাত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিম্নমানের যন্ত্রপাতি ও পুরাতন সরঞ্জাম ক্রয়ের অভিযোগঃ
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সিএসটিই-পূর্ব দপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে নিম্নমানের এসি, ১২ ভোল্টের ব্যাটারি, সিবিআই সিগন্যালিং যন্ত্রপাতি এবং পুরাতন কার্ড নতুন হিসেবে ক্রয়ের অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাজারমূল্যের তুলনায় বেশি দামে এবং যথা যথ টেস্টিং সার্টিফিকেট ছাড়াই এসব সরঞ্জাম কেনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
অভিযোগ রয়েছে, সুশীল হালদার সিএসটিই/পূর্ব থাকা কালীন ওয়েস্টার্ন ট্রেডার্সের সাপ্লাইয়ার মিস্টার মনিরের মধ্যেমে সিবিআই সিগন্যালিং ব্যবস্থার বিভিন্ন কার্ড ক্রয় করেন। যা ছিলো ভৈরব স্টেশনের রিলিজকৃত পুরাতন। রিকুইজিশন গুলো ছিলো ডিএসটিই/চট্টগ্রামের সাক্ষর বিহীন।
সুশীল হালদার সিএসটিই/পূর্ব থাকাকালিন সময় টেন্ডারের মাধ্যমে বন্ধ স্টেশন চালুর নামে জনাব সজীব মিয়া এস এস এ ই/সংকেত এবং সংকেত বিভাগের লোকজন দিয়ে কাজ করিয়েছে বলে ছবিসহ অভিযোগ এসেছে । এছাড়া বদলি বাণিজ্য, বাসা বরাদ্দে অনিয়ম এবং বন্ধ স্টেশন চালুর নামে অর্থ লোপাটের অভিযোগও সামনে এসেছে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অতি: প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী (সিএসটিই-পূর্ব) তারেক মোহাম্মদ শামছ তুষার এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি এবং বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী সুশীল কুমার হালদারের অফিসিয়াল নম্বরে ফোন দিলে তিনি রেলনিউজকে বলেন,
এসকল অভিযোগ ভিত্তিহীন, আমি নিয়মের বাইরে কোন কাজ করি না। দুদক চিঠি দিয়েছে আমরা জবাব দিয়েছি। বিচার বিশ্লেষণ দুদক করবে। এখনতো সব কাজ হয় ইজিপির মাধ্যমে তাই কাউকে কাজ দিয়ে কমিশন নেয়ার সুযোগ নেই। বন্ধ স্টেশন চালু না করার ব্যাপারে আমাদের কোন হাত থাকে না। ওয়েস্টার্ন ট্রেডার্সের সাপ্লাইয়ার মিস্টার মনিরের ইস্যুতে তিনি বলেন, এরা লোকাল এজেন্ট। আমাদের এজেন্টদের কাছ থেকেই নিতে হয়। অতি: প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী (সিএসটিই-পূর্ব) তারেক মোহাম্মদ শামছ তুষার এর ব্যাপারে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার জানা নেই। আমরা রুটিন ওয়ার্ক করি।

- Advertisement -spot_img

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

Latest article